টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে বিএনপিতে দুই ও আ’লীগে পাঁচ সম্ভাব্য প্রার্থী

Ghatail-pic.টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় নির্বাচনী হাওয়া বইতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে বড় দু’দলে একাধিক প্রার্থী দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। উপজেলার আনাচে-কানাচের দেয়াল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে ভোটারদের মধ্যে জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়ে গেছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লায় নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে। এ উপজেলার নির্বাচনী তফসিল এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল(বিএনপি) থেকে ৫ বারের ইউপি চেয়ারম্যান, একবার পৌর মেয়র ও সাবেক পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুর রশিদ মিয়া ক্লিন ইমেজের লোক। তার প্রতি ভোটারদের আগ্রহ বেশি। তিনি উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে ঘাটাইলের বিভিন্ন এলাকায় ভোটারদের দোয়া এবং বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মকান্ডে অংশ নিয়ে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জানান, উপজেলা পরিষদের নির্বাচন স্থানীয় সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। এখানে দলীয় প্রভাব থাকলেও নির্বাচনটি সম্পূর্ণ নির্দলীয়। সেজন্য তিনি দল-মতের উর্ধে ওঠে জনসাধারনের সমর্থন নিয়ে উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। ঘাটাইল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আখম রেজাউল করিমও চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে আগ্রহী। দলীয় ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী লুৎফর রহমান খান আজাদ তাকে সমর্থন দিয়ে তৃণমূলের ভোটে বিজয়ী দেখালেও নেতাকর্মীদের মাঝে বিভক্তি স্পষ্ট। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ভুল প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছেন।

অপরদিকে, স্থানীয় আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, বিগত নির্বাচনে বিজয়ী উপজেলা চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম খান সামুকে দল থেকে সমর্থন দেয়ার চিন্তাভাবনা চলছে। নির্বাচনের পরে নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা না করায় মানুষ তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। যদিও দল তাকেই পুনরায় সমর্থন দেয়ার চিন্তাভাবনা করছে। আরেক প্রবীণ নেতা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা আজমল হোসেন পরীক্ষিত নেতা। দলে তার একটি বিশেষ অবস্থান রয়েছে। উপজেলা আ’লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক মাসুদুর রহমান আজাদ ১৯৮৯ সালে জিবিজি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন এবং স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আনন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯৭ সালে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এখন পর্যন্ত উপজেলা রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত। তিনি আসন্ন উপজেলা নির্বাচন প্রার্থী হিসেবে সমর্থনের জন্য দলীয় হাইকমান্ড থেকে শুরু করে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে যাচ্ছেন। ঘাটাইল জিবিজি কলেজের প্রভাষক ওয়াহেদ শরীফ সিদ্দিকী চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। জাতীয় পার্টি বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান হালিম রনিকে চেয়ারম্যানের পদে সমর্থন দিয়েছে।

এদিকে, ঢাকাস্থ সাদমান এন্টারপ্রাইজের স্বত্ত্বাধিকারী আতাউল করিম খান(সুমন) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চেয়ারম্যান পদে প্রচারণা চালাচ্ছেন।