খুলনায় উপজেলা নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ খুলনা বিএনপির

khulnaখুলনা ব্যুরোঃ খুরনায় উপজেলা নির্বাচনে নিশ্চিত পরাজয় ঠেকাতে সরকার মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে অভিযোগ খুলনা বিএনপির। প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগে দলীয় পরিচয়ধারীদের তালিকাভূক্ত করা, পুলিশ প্রশাসনকে ব্যবহার করে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদেরবাড়ি বাড়ি তল্লাশি ও গণগ্রেফতার এবং দলীয় ক্যাডারদের পাঠিয়ে ভোট কেন্দ্রে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে ভোটারদের নির্দেশ দেয়া হচ্ছে।রবিবার দুপুরে খুলনার কে ডি ঘোষ রোডস্থ বিএনপি কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির পক্ষ থেকে এসব অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য রাখেন মহানগর বিএনপি সভাপতি ও জোটের প্রধান সমন্বয়ক নজরুল ইসলাম মঞ্জু। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি হয়ে যাওয়া জেলার দুই উপজেলার একটি দিঘলিয়ায় বিএনপি সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিজয় ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে এবং সেখানে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় অসংখ্যক নেতাকর্মী ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। কয়রায় জামায়াত প্রার্থী চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর নানা ভাবে জোটের নেতাকর্মীরা হয়রানি হচ্ছেন। এমনকি শনিবার জায়গীরমহল গ্রামে দুই ভাইয়ের ঘের সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে এক যুবক খুন হলে তার জন্য জোটের নেতাকর্মীদের অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের ও মিডিয়াতে নির্বাচনী সহিংসতা বলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।খুলনা জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক এড. এস এম শফিকুল আলম মনা এ সময় বলেন, আগামী ২৭ ফেব্রুয়ারি ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাচনকে ঘিরে সরকার সর্বোচ্চ ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আওলাদ হোসেনকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা দাবি করে তিনি বলেন, গতকাল বিএনপির নেতাকর্মীদের একটি তালিকা পুলিশের মিটিংয়ে উপস্থাপন করে ওসি তাদেরকে গ্রেফতার করতে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন। ইতিমধ্যে সেখানে কল্যাণ বাড়ই, আবুল হোসেন ও খবিরকে বিনা মামলায় গ্রেফতার করে পরে পেন্ডিং মামলায় চালান করেছে। চুকনগরের আমিনুর রহমান মোড়লকে নির্বাচনী প্রচারনায় দেখা গেলে ৫ মামলায় গ্রেফতার করবে বলে পুলিশ হুমকি দিয়েছে। পুলিশের হুমকিতে চুকনগরের কয়েক শত কর্মী আজ বাড়ি ছাড়া। জোটের নেতারা সেখানে নির্বাচনী প্রচারনা চালাতে গিয়ে জেনেছেন, হিন্দু সম্প্রদায়কে ভোট দিতে গেলে দেশ ছাড়া করা হবে বলে হুমকি দিয়েছে আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা।এদিকে সংবাদ সম্মেলনে ডুমুরিয়ায় ঐক্যবদ্ধ নাগরিক ফোরাম সমর্থিত প্রার্থী খান আলী মুনসুরের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট জেলা বিএনপির সহ সভাপতি মোল্লা আবুল কাশেম জানান, নির্বাচনে যে সব কেন্দ্রে তাদের প্রার্থীর বিজয় সুনিশ্চিত, সেসব কেন্দ্রে সরকার দলীয় ক্যাডাররা আতংক সৃষ্টির জন্য বোমাবাজি, ভোট কেন্দ্রে যেতে বাঁধাদান এবং কেন্দ্র দখল করে ভোট ডাকাতি করার প্রস্ততি নিয়েছে। তিনি ধামালিয়া ইউনিয়নের চেচুড়ি কেবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, টোলনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রঘুনাথপুর ইউনিয়নের আন্দুলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কুমরাইল সরকারি বিদ্যালয়, থুকড়া ওয়াজেদিয়া দাখিল মাদ্রাসা, রুদাঘরা ইউনিয়নের মিকশিমিল মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মিকশিমিলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খর্ণিয়া ইউনিয়নের রানাই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মেছেঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আটলিয়া ইউনিয়নের নর্ণিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্র, মালতিয়া সরকারি প্রাথামিক বিদ্যালয়, চাকুন্দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মাগুরাঘোণা ইউনিয়নের আরশনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দক্ষিণ মাগুরাঘোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে অত্যন্ত ঝুকিপূর্ণ বলে দাবি করেন।সংবাদ সম্মেলনে ভোটগ্রহনের দায়িত্বে নিয়োজিত সিভিল প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন, উত্থাপিত অভিযোগ সম্পর্কে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিতর্কিত দলবাজ কর্মকর্তাদের পরিবর্তে নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের দ্বারা ভোটগ্রহন আয়োজনের জন্য রিটার্নিং অফিসারের কাছে জোর দাবি জানানো হয়।সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম নুরুল ইসলাম দাদু ভাই, কেসিসির মেয়র মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনি, সাহারুজ্জামান মোর্ত্তজা, ডাঃ গাজী আব্দুল হক, জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু, এড. মোমরেজুল ইসলাম, ফখরুল আলম, অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।