পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্পে স্থানীয়দের চাকুরীর দাবিতে মনববন্ধন

PHOTO PBT-23বদরুদ্দোজা বুলু,পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
স্থানীয় ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণকে চাকুরী না দেয়ায় ফের আন্দোলনে উত্তাল হয়ে উঠেছে পার্বতীপুরের মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্প। আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে স্থানীয়দের চাকুরী দেয়ার ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে হরতালসহ কঠোর কর্মসূচির আল্টিমেটাম দিবে আন্দোলনররত মধ্যপাড়া অধিকার রক্ষা কমিটি, ক্ষতিগ্রস্ত কমিটি ও খাগড়াবন্দ জনকল্যান ফোরাম নামের তিনটি সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনতা। দাবি আদায়ে আজ রবিবার তারা খনির প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে।

রবিবার দুপুরে স্থানীয় শতশত মানুষ খনির প্রধান ফটকের সামনে মানববন্ধন, বিক্ষোভসহ ঘেরাও কর্মসূচি পালন করে। এ কর্মসূচীতে একত্বতা জানায়, মধ্যপাড়া অধিকার রক্ষা কমিটি, ক্ষতিগ্রস্ত কমিটি এবং খাগড়াবন্দ ফোরাম সহ গুড়গুড়ী-মধ্যপাড়া শতশত শিক্ষিত বেকার যুবক। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি আঞ্চলিক/জাতীয় কোন পত্রিকায় না দিয়ে শুধুমাত্র দেয়াল বিজ্ঞপ্তি দিয়ে হাজার হাজার লোক জনকে হয়রানী করছে। দেয়াল বিজ্ঞপ্তিতে কর্তৃপক্ষের কোন স্বারক নং কিংবা স্বাক্ষর/সীল ব্যবহার করা হয়নি। ফরম সংগ্রহকারী অনেকেই জানান,ফরম সংগ্রহ করেছি এবং জমাও দিয়েছি কিন্তু ভাইভা বোর্ডে ডাক পড়েনি। অপরদিকে চাকুরী বাণিজ্যে মেতে উঠেছে এক শ্রেনীর টাউট প্রভাবশালী ব্যক্তি চক্র। ফোরামের সভাপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য মাসুদুর রহমান শাহের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন, অধিকার রক্ষা কমিটির সভাপতি মোকারম হোসেন,ক্ষতিগ্রস্ত কমিটির মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম, মামুনুর রশিদ, জুয়েল হোসেন, রুহুল আমীন প্রমুখ। উপস্থিত নেতৃবৃন্দ পেট্রোবাংলা ও জিটিসিকে ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, আগামী ২৪ ঘন্টার মধ্যে পূর্বের খনি কর্মী ও স্থানীয় যুবকদের যোগ্যতার আলোকে চাকুরী দেয়া না হলে কঠিন শিলা প্রকল্পে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষনাসহ হরতালের মত কঠোর কর্মসূচি দেয়া হবে। মধ্যপাড়া অধিকার রক্ষা কমিটির সভাপতি মোকাররম হোসেন শাহ বলেন, জানুয়ারী থেকে জিটিসি নিরাপত্বা কর্মী দিয়ে ১৪ হাজারেরও বেশী স্থানীয় খনিকর্মী ও নাগরিকের ভাইভা নেয়ার নাটক করছে। কিন্তু স্থানীয়দের চাকুরী না দিয়ে তারা বাইরে থেকে লোক নিয়োগ দিচ্ছে। কর্তৃপক্ষ যদি এ অশুভ তৎপরতো বন্ধ না করেন তাহলে যে কোন পরিস্থিতির জন্য তাদেরকেই দায়ী থাকতে হবে বলে উল্লেখ করেন তারা।

এদিকে,ক্ষতিগ্রস্ত কমিটির মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা আমাদের জমি ভিটেমাটি দিয়ে এ খনি প্রতিষ্ঠা করে এখন পথে নেমেছি। আমাদের যোগ্য নাগরিকদের যদি চাকুরী দেয়া না হলে তাহলে আমরা রক্ত দিয়ে হলেও তা আদায় করে ছাড়বো। মধ্যপাড়া কঠিন শিলা প্রকল্পের  জিএম আব্দুল হান্নান জানান, আমরা জিটিসির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। এবং চুক্তিপত্রে স্থানীয়দের অগ্রাধিকার দেয়ার বিষয়টি স্পষ্ট করে লিখিত নির্দেশনা দেয়া আছে। যদি তারা এ বিষয়ে নির্দেশনা না মানে তাহলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। পুলিশ প্রশাসন ক্ষতিগ্রস্তদের মানববন্ধনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।