সোমবার পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচন : আ’লীগ ও বিএনপি’র অস্তিত্বের লড়াই

chairবখতিয়ার রহমান, পীরগঞ্জ ( রংপুর) ঃ
২৪ ফেব্রয়ারী সোমবার রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাচন । উপজেলা নির্বাচনের ১ম ধাপে গত ১৯ ফেব্রয়ারী এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল । কিন্ত গত দশম সংসদ নির্বাচনে প্রধান মন্ত্রী শেখ হাসিনা এ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হওয়ায় পরবর্তিতে তিনি এ আসন ছেড়ে দেন । ফলে নির্বাচন কমিশন এ আসনে ২০ ফেব্রয়ারী উপ-নির্বাচনের দিন ঘোষনা করেন । সে সঙ্গে ১ম ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তারিখ অনুয়ায়ী ১৯ ফেব্রযারী পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তারিখও নিদ্ধারিত হয় । এ দিকে উপ নির্বাচনের তারিখের ১ দিন পুর্বে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তারিখ নিদ্ধারিত হওয়ায় গত ২২ জানুয়ারী নির্বাচন কমিশন এক প্রজ্ঞাপনে পীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তারিখ পরিবর্তন করে ২৪ ফেব্রয়ারী এ নির্বাচনের দিন ধার্য্য করেন ।

নির্বাচন অফিস সুত্রে জানা গেছে, এবারের এ নির্বাচনে পীরগঞ্জে মোট ভোটারের সংখ্যা ২ লাখ ৬২ হাজার ৭ শত ৩০ জন । আর ভোট কেন্দ্র ১০৬ টি এবং ভোট কক্ষের সংখ্যা ৫৩৪ টি।

রংপুরের ভিআইপি উপজেলা বলে পরিচিত পীরগঞ্জ । তাই সর্ব মহলের বিশেষ কৌতুহল রয়েছে এ উপজেলার নির্বাচন নিয়ে । এবারের এ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এখানে চেয়ারম্যান পদে ৩ জন, পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৮ জন এবং মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে ৪ জন প্রার্থী প্রতিদন্ধিতা করছেন । চেয়ারম্যান পদে যারা প্রতিদন্ধিতা করছেন তারা হলেন বিএনপির কেন্দ্রিয় কমিটির সদস্য ও ২ বারের সাবেক সংসদ সদস্য নুর মোহাম্মদ মন্ডল ( আনারস), জেলা আ’লীগের সহ সভাপতি ছায়াদত হোসেন বকুল (কাপ পিরিচ) ও বিদ্রোহী আ’লীগ নেত্রী মেসকোয়ারা হাবিব মুক্তি (মোটর সাইকেল) ।

পুরুষ ভাইস চেয়ারম্যান পদে যারা প্রতিদন্ধিতা করেছেন তারা হলেন মোনায়েম হোসেন মানু (টিয়া পাখি), আনোয়ারুল হক ( বই), নুরুল হোসেন খান (তালা), উত্তম কুমার ( উড়ো জাহাজ) , শাহাদত হোসেন সাদা (বাল্ব), আসাদুজ্জামান (নলকুপ), জায়দুল হক ( মাইক) ও নুরুল হুদা তালুকদার (চশমা)।

মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে যারা প্রতিদন্ধিতা করেছেন তারা হলেন আকতার বানু লিপি (পদ্ম ফুল), রওশনারা বেগম রীনা (কলস), হাবিবা বেগম মিথি (হাস) ও এছমত আরা শেলী (ফুটবল ) ।

সারা দেশে উপ-নির্বাচনের ন্যায় পীরগঞ্জেও জমে উঠেছে এ নির্বাচন । চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা অবিরাম ছুটে চলছেন ভোটরদের কাছে । নিজেদের পক্ষে ভোট/সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন । তারা ভোটারদের কাছে তুলে ধরছেন নির্বাচিত হলে ভবিষ্যত পরিকল্পনার কথা । সে সঙ্গে প্রতিদন্ধি প্রার্র্থীদেরও দোষ ক্রটিও প্রকাশ করতে দ্বিধা করছেন না কোন কোন প্রার্থী । অপর দিকে কে নির্বাচিত হলে করবেন দুর্ণিতী মুক্ত উন্নয়ন, কার কাছে সাদারন মানুষ যেতে ও সমস্যার কথা বলতে পারবেন এ নিয়ে ভোটারেরাও করছেন চুল ছেড়া বিশ্লেষন ।

চেয়ারম্যান প্রার্থী পীরগঞ্জের সাবেক সংসদ সদস্য নুর মোহাম্মদ মন্ডল পীরগঞ্জের উন্নয়নে যে কাজ করেছেন তা যেন ভোটার কাছে ভোলার নয় । এ ছাড়া দীর্ঘ দিন ক্ষমতার বাহিরে থেকেও উপজেলার সর্ব সাধারনের উন্নয়নে তার অব্যাহত সাহায্য সহযোগীতায় অধিকাংশ ভোটার তার মত নেতার বিকল্প খুজে পাচ্ছেন না । এ ছাড়া বিগত দশম সংসদ নির্বাচনে ভোটারেরা অনেকটাই ভোট প্রদান থেকে বঞ্চিত থাকায় বর্তমান সরকারের উপর ভোটারদের ক্ষোভ ও রয়েছে । আর এ সব কারনে বেশীর ভাগ ভোটার নুর মোহাম্মদ মন্ডলকে সমর্থন দেয়ার কথা ভাবছেন । অপর দিকে পীরগঞ্জে বিএনপির দলীয় বিরোধের অবসান ও ১৯ দলীয় জোটের একক প্রার্থীর কারনেও নুর মোহাম্মদ মন্ডলের জয়ের ক্ষেত্রে সম্ভাবনা সৃষ্ঠি হয়েছে ।

অপর এক চেয়ারম্যান প্রার্থী হচ্ছেন প্রয়াত ডঃ এম, এ ওয়াজেদ মিয়ার ভাতিজা ও রংপুর জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি ছায়াদত হোসেন বকুল । পীরগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের পুর্ণাঙ্গ কমিটি না থাকলেও তিনি উপজেলা আ’লীগের একক প্রার্থী । দলীয় নেতা কর্মিদের মাঝে তার বেশ পরিচিতি থাকলেও সাধারন ভোটারদের কাছে তার তেমন পরিচিতি নেই । তাই দলীয় নেতা কর্মি ও সমর্থকদের বেশীর ভাগ ভোট তার প্রতিকে পড়ার সম্ভাবনা থাকলেও তার জয়ের সম্ভাবনা নির্ভর করছে সাধারন ভোটারদের সমর্তনের উপর ।

উপজেলা চেয়ারম্যান পদের অপর এক প্রার্থী মেসকোয়ারা হাবিব মুক্তি । তিনি দীর্ঘ দিন ধরে আ’লীগ রাজনীতির সাথে যুক্ত থেকে বিদ্যুত বিতরন সম্প্রসারনে ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে জনগনের সাথে সম্পৃক্ত থেকে সাহায্য সহযোগীতার মাধ্যমে দলীয় নেতা কর্মি সহ সাধারন ভোটারদের কাছে অনেকটা পরিচিতি লাভ করেছেন । তিনি আ’লীগ মনোনীত প্রার্থী না হলেরও দলের একটি অংশ নেপথ্যে থেকে তার পক্ষে কাজ করছেন এবং আ’লীগেরও ভোটের একটি অংশ তার প্রতিকে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে । সাধারন অনেক ভোটার মনে করেন উন্নয়নের ক্ষেত্রে মুক্তির বেশ অবদান আছে হেতু তারও অনেক সাধারন ভোটারের সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ।

সর্বপরি পীরগঞ্জের সাধারন ভোটারেরা এত নির্বাচনী আমেজের মাঝেও সুষ্ট নির্বাচন নিয়ে সন্দিহান রয়েছে । গত শুক্রবার রাতে এক চেয়ারম্যান প্রার্থী মুক্তির নির্বাচনী পথ সভায় হামলার ঘটনায় এ সন্দেহ আরও প্রকট হয়েছে বলে মনে করছেন সাধারন ভোটারেরা । তারা যে কোন মুল্যে সুষ্ট নির্বাচন প্রত্যাশা করছেন ।