ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিনত করতেই পিলখানা ট্রাজেডি ঘটানো হয়েছে

Pic 22-02 (1) ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্র“য়ারী ষড়যন্ত্রকারীরা বিডিআর বিদ্রোহের নামে সেনাসদস্যদের হত্যাকান্ডটি সূচারুভাবে সম্পাদন করতে পেরেছিল তাদের আভ্যন্তরিন দালালদের সহযোগিতায় আর আমাদের জাতীয় ঐক্য না থাকার সূযোগে। এই হত্যাকান্ড তো বাংলাদেশের কারো লাভ হয়নি, তাহলে লাভ হয়েছে কাদের? তাদেরই যারা বাংলাদেশকে দেখতে চায় একটি অকার্যকর, দুর্বল, ভঙ্গুর ও ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ ন্যাপ‘র মানববন্ধন কর্মসূচীতে এই অভিমত প্রকাশ করে জাতীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বিডিআর ট্রাজেডি স্মরণে ২৫ ফেব্র“য়ারী জাতীয়ভাবে শোক দিবস পালনের পাশাপাশি ‘শহীদ সেনা দিবস’ ঘোষনার আহ্বান জানান।

আজ শনিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ‘বিডিআর ট্রাজেডি স্মরণে ২৫ ফেব্র“য়ারী জাতীয় শোক দিবস পালন ও শহীদ সেনা দিবস ঘোষনার দাবীতে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচীতে ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গাণি‘র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কল্যাণ পার্টি চেয়ারম্যান মেঃ জেঃ (অব) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বীরপ্রতীক, এনডিপি চেয়ারম্যান খোন্দকার গোলাম মোর্ত্তজা, ইসলামিক পার্টি সভাপতি এডভোকেট আবদুল মোবিন, ন্যাপ মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া, এনডিপি মহাসচিব আলমগীর মজুমদার, কল্যাণ পার্টি ভাইস চেয়ারম্যান সাহিদুর রহমান তামান্না, ন্যাপ নেতা সুব্রত বারুরী, অধ্যক্ষ বেনজির আহমেদ, যুগ্ম মহাসচিব স্বপন কুমার সাহা, মোড়ল আমজাদ হোসেন, মোঃ নুরুল আমান চৌধুরী, মোঃ রাশেদউদ্দিন ফয়সাল, মোঃ কামাল ভুইয়া, মোঃ শহীদুননবী ডাবলু, মতিয়ারা চৌধুরী মিনু, আবদুল কাইয়ুম মাহমুদ, প্রিন্সিপাল নজরুল ইসলাম, মোঃ শামিম ভুইয়া, আক্তার হোসেন, মেহেদী হাসান সোহেল, তোফাজ্জল হোসেন ভানু, ছাত্রনেতা এম.এন. শাওন সাদেকী প্রমুখ।

মেজর জেনারেল (অবঃ) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেছেন, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্র“য়ারী বিডিআর বিদ্রোহের যে নাটক মঞ্চস্থ হয়েছিল তা যে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বে উপর চরম আঘাত তা দিবালোকের মত স্পষ্ট। ঐদিন বিডিআর সদর দফতরে সেনাকর্মকর্তাদের হত্যার মাধ্যমে যে বিপুল ক্ষতি সাধিত হয়েছে তা পূরনে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করে ২০-২৫ বছর লেগে যাবে বাংলাদেশের।

এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া বলেন, সাম্রজ্যাবাদী প্রভুদের এজন্ডা বাস্তবায়ন অংশ হিসাবেই পিলখানা ট্রাজেডি ঘটিয়েছে ষড়যন্ত্রকারীরা। পিলখানার বধ্যভূমিতে দেশপ্রেমিক সেনাসদস্যদের লাশের ছবি দেখলে মনে হয় বাংলাদেশের মানচিত্র কতটা হুমকির মুখে। ১৭৫৭ সালে পলাশীতে যে ট্রাজেডি ঘটেছিল ২০০৯ সালেও পিলখানায়ও একই ঘটনার পূনরাবৃত্ত ঘটেছিল। বিডিআর ট্রাজেডির নেপথ্য নায়কদের বাদ দিয়ে যে বিচার তা বিচারের নামে প্রহসন।

সভাপতির বক্তব্যে জেবেল রহমান গাণি বলেছেন, বিডিআর ট্রাজেডি আমাদের দেশের এক কলংকজনক অধ্যায়। ২৫ ফেব্র“য়ারী রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালন করা উচিত। একুশ যেমন আমাদের গৌরবোজ্জ্বল তেমনই ২৫ ফেব্র“য়ারী আমাদের লজ্জ্বিত করে। এই লজ্জ্বা থেকে জাতিকে মুক্তি দিতে পিলখানা ট্রাজেডির সাথে জড়িত ষড়যন্ত্রকারীদের চিহ্নিত করতে হবে এবং তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।