‘জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে জবাব দিতে শুরু করেছে’ : ড. খন্দকার মোশাররফ

mosharraf-bnp-leader-2_22724_54921বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, প্রহসনের নির্বাচনে একটি অনির্বাচিত ও অবৈধ সরকার দেশের জনগণের ওপর চেপে বসেছে। উপজেলা নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ তাদের বিরুদ্ধে জবাব দিতে শুরু করেছে।

আজ শনিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত ‘অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

খন্দকার মোশাররফ বলেন, বর্তমান সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতায় এসে গণতন্ত্রের টুটি চেপে ধরেছে। তারা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করেছে। ৫২ চেতানায় উদ্বুদ্ধ হয়ে গণ অভূত্থান ঘটিয়ে এদের উৎখাত করা হবে।

তিনি বলেন, এই সরকার অস্বাভাবিক সরকার, অনির্বাচিত সরকার। তারা গায়ের জোরে সংবিধান পরিবর্তন করে ক্ষমতায় এসে গণতন্ত্রের টুটি চেপে ধরেছে। এরা অদ্ভূ ভাবে দেশ চালাচ্ছে।

মোশাররফ আরও বলেন, ১৯৫২ সালে পাকিস্তানি ফ্যাসিস্ট গোষ্ঠি সংখ্যা গরিষ্ট মানুষের উপর সংখ্যা লঘু মানুষের ভাষা উর্দুকে চাপিয়ে দিয়েছিল। সেদিন তাদের এই আঘাত শুধু ভাষার উপরই আঘাত ছিলনা। সেটা ছিল গণতন্ত্রের উপর আসা প্রথম আঘাত। বর্তমানেও গণতন্ত্রের উপর আঘাত এসেছে। এর আগে ১৯৭৫ সালেও গণতন্ত্রের উপর আঘাত এসেছিল। মানুষের বাক স্বাধীনতা হরণ করে বাকশাল কায়েম করেছিল। সেদিন গণতন্ত্রকামী মানুষ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দেশে গণতন্ত্র পুন:প্রতিষ্ঠা করেছিল। অতীতের মতো বর্তমানেও হারিয়ে যাওয়া গণতন্ত্র পূনরুদ্ধারে বিএনপিই ভূমিকা রাখবে।

নির্বাচনী ট্রেনের কথা উল্লেখ করে ড. মোশাররফ বলেন, আওয়ামী লীগ বারবার ট্রেনের কথা বলে কিন্তু বিএনপিসহ দেশের জনগন যে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছিল সে ট্রেন আসে নাই। আর আওয়ামীলীগ যে ট্রেনে উঠেছিল সেটা ছিল একটা মালবাহী ট্রেন। যেখানে দেশের জনগন উঠে নাই। যে ট্রেনে দেশের জনগন উঠেনা সেই ট্রেনে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া উঠতে পারেন না।

বিশেষ অতিথির দেশের প্রধান কবি আল মাহমুদ বলেন, আমরা আমাদের ভাষা ও সংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় অনেক লড়াই সংগ্রাম করেছি। ইতিহাস যার সাক্ষী। আমরা নতুন প্রজন্মের জন্য একটি নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছি। আমি আমৃত্যু ভাষা নিয়ে কথা বলেই যাব।

তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকেও আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে। তোমাদের প্রতি সবসময় আমার ভালবাসা থাকবে।

জাসাসের কেন্দ্রীয় সভাপতি এমএ মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন, জাসাসের সাধারণ সম্পাদক কণ্ঠশিল্পী মনির খান,  সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম রফিক,ছড়াকার আবু সালেহ, জাহিদা খানম ঝুনু, শাহাদাৎউল্লাহ শিশির প্রমুখ।