গোপালগঞ্জের প্রতিটি পূজা মন্ডপে চলছে শেষ মূহূর্তের প্রস্তুতি

শরিফুল রোমান, গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: আর কয়েকদিন পর হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দূর্গাপূজা আনুষ্ঠিত হবে। ফলে প্রতিটি পূজা মন্ডপে চলছে শেষ মূহূর্তের প্রস্তুতি। এ পূজাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছরের মত এ বছরও গোপালগঞ্জে চলেছে নানা আয়োজন। পূজা মন্ডপ তৈরী থেকে শুরু করে চলছে খঁড় আর মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরীর কাজ। সেই সাথে চলছে সাজ সজ্জার কাজ। তবে এ বছর সকল রেকর্ড ভঙ্গ করে গোপালগঞ্জ জেলায় ১হাজার ৩০টি পূজা মন্ডবে এ দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে সরকারের পক্ষ থেকে গোপালগঞ্জ জেলায় অনুষ্ঠিত মন্দির গুলোতে ৪৯৩ মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রতি বছরের মত এবছরও দেবী বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয়া দূর্গাপূজা। এবছর মা দূর্গা গজে করে পৃথিবীতে আসবেন। দূর্গার আগমনে এ বছর গোপালগঞ্জ জেলায় চলছে ১০৩০ টি মন্ডপে পুজার প্রস্তুতি। ফলে কোন মন্ডপে চলছে সাজানো গেছানোর কাজ, কোন মন্ডপে চলছে রং এর কাজ। সেই সাথে দেবী দূর্গার আগমন সন্নিকটে।থ্কায় আয়োজকরা করেছেন সাজ সজ্জার কাজ। আর কয়েকদিন পরে ঢাকের বাজনা, উলুধ্বনি ও আরতীতে মুখরিত হবে পাড়ামহল্লা ও গ্রাম। ফলে খড় ও কাঁমাটি দিয়ে পরম যতেœ গড়ে গড়ে উঠছে এসব প্রতিমা। দূর্গাপূজা উপলক্ষে গোপালগঞ্জে মৃৎ শিল্পীদের দম ফেলার যেন ফুরসত নেই। দূর্গাপূজাকে সামনে রেখে প্রতিটি মন্ডপেই প্রতিমা তৈরীতে ব্যস্ত শিল্পীরা। রং তুলির শেষ আচড় দিয়ে পরিপূর্নতায় রূপ দেবেন মৃৎ শিল্পীরা। বর্ষার মাঝামাঝি সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিমা শিল্পিরা চলে আসেন গোপালগঞ্জের এসব মন্ডপে। তবে কাজ চলবে পূজা শুরুর আগের দিন পর্যন্ত। তবে কয়েক দিনের মধ্যে প্রতিমা তৈরীর কাজ শেষ হয়ে যাবে। দেবী দুর্গা, তার সাথে বিদ্যার দেবী স্বরসতী, ধন সম্পদের দেবী লক্ষ্মী এবং তার সাথে দেবতা কার্তিক, গনেশসহ নানা দেব-দেবীর প্রতিমার রূপকে ফুঁটিয়ে তুলছেন নিপুন হাতের ছোঁয়ায়। এদিকে দর্শনার্থীদের আনন্দ দিতে শহরের সড়ক গুলোতে চলছে অলোক সজ্জার কাজ। বিভিন্ন স্থানে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন রকমের রঙ্গিন বাতি। শারদীয়া এ দূর্গাৎসব শুধু হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের নয় অন্যান্য ধর্মবলম্বীদের মধ্যেও সৃষ্টি করবে দৃঢ় সম্প্রিতির বন্ধন এমনটাই প্রত্যাশা সকলের।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানাগেছে, গত বছর গোপালগঞ্জে জেলায় ৯৩৭টি পূজা মন্ডপে শারদীয় দূর্গাপুজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবছর সকল রেকর্ড ভেঙ্গে গোপালগঞ্জের ৫টি উপজেলায় ১হাজার ৩০টি মন্ডপে দূর্গা পুজা অনুষ্ঠিত হবে। যা গত বছরের তুলায় এবছর ৯৩টি বেশি পূজা মন্ডপে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ২শ ৫৮টি, কোটালীপাড়া উপজেলায় ২শ ৪৮টি, মুকসুদপুর উপজেলায় ২শ ৪৪টি, কাশিয়ানী উপজেলায় ২শ ১১টি ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় ৬৯টি পূজা মন্ডপে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া গোপালগঞ্জ পৌরসভায় ২১টি পূজামন্ডপে দূর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে। এসকল মন্ডপের মধ্যে গোপালগঞ্জ সদর উপজেরার চেচানিয়াকান্দি শ্রীশ্রী শীতলা সার্বজনীন মন্ডপটিকে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ধরা হয়েছে।
জেলা ত্রাণ অফিস সূত্রে জানাগেছে, এ বছর গোপালগঞ্জ জেলায় অনুষ্ঠিত ১ হাজার ৩০টি মন্ডপের জন্য সরকারীভাবে ৪৯৩ মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলায় ১২৩ মেঃটঃ,  কোটালীপাড়া উপজেলায় ১১৮ মেঃটঃ, মুকসুদপুর উপজেলায় ১১৬ মেঃটঃ, কাশিয়ানী উপজেলায় একশত মেঃটঃ ও টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় ৩৩ মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
ভাস্কর শিল্পী যোগেশ পাল, চিত্ত রঞ্জন পাল ও জীবন রায় জানান, এবছর এক-একজন ভাস্কর ৩ থেকে ৪টি প্রতিমা তৈরী করেছেন। পূজা শুরুর কয়েকদিন আগের শেষ হয়ে যাকে প্রতিমা তৈরী ও রং এর কাজ। তবে বিগত বছরের তুলনায় মুজরী কিছুট বাড়লেও দ্রব্য মূল্যের উর্ধগতির এই বাজারে পরিশ্রমের পর প্রতিমা তৈরী করে যে মজুরি পান শিল্পীরা তা দিয়ে জীবন যাপন করা কষ্টের হয়ে পড়েছে তাদের। ফলে পুর্বপুরুষের এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন অনেকেই।
আয়োজক শিবেন্দ্র নাথ বিশ্বাস জানান, আর কয়েক দিনের মধ্যে প্রতিমা তৈরীর কাজ শেষ হয়ে যাবে। তবে এবছর প্রতিমা তৈরীর আনুসঙ্গিক জিনিস পত্রের দাম বাড়ার কারণে তাদের এবার খরচের পরিমান বেশি। তার পরেও জাঁক-জমক ভাবে পূজা করার জন্য তারা চেষ্ঠা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিল তিল ভাবে প্রতিটি মন্দির মুখরিত করতে পরিশ্রম করে যাচ্ছেন আযোজকরা।

গোপালগঞ্জ জেলা হিন্দু-বৈদ্য ঐক্য পরিষদ সাধারন সম্পাদক দিলীপ কুমার সাহা (দিপু) জানান, এবছর নানা আযোজনে দূর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে। তবে দ্রুব মূল্য উধগতির কারনে গ্রামাঞ্চলে পূজা মন্ডপ তৈরী করেত অনেক কষ্ঠ হচ্ছে আয়োজকদের। এছাড়া সরকারী সাহায্য-সহাযোগীতা প্রয়োজনের তুলানায় অনেক কম। তরপরেও কষ্ঠের মধ্যে থেকে দূর্গাপূজা যতটা আননন্দের মধ্যে করা যায় আয়োজককেরা সে চেষ্ঠা করেছেন।
জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা অচিন্ত কুমার সেলা জানিয়েছেন, এ বছরের পূজায় সারা জেলায় ৪৯৩ মেট্রিক টন চাউল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। পূজা শুরুর আগেই এসকল চাল প্রতিটি মন্ডপে দেওয়া হবে।
অতিঃ পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম জানান, সার্বজনীন পূজা মন্ডপ গুলোতে পূর্বের মত নিরাপত্তা থাকবে। দূর্গা পূজা উপলক্ষ্যে গোপালগঞ্জ জেলার আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রন রাখা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যে দিয়ে পালন করতে পারে সেজন্য ঝঁকিপূর্ন মন্ডপগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে। এর পাশাপাশি যদি মনে করি নিরাপত্তা আরো জোরদার করতে হবে সেটা আমরা করবো।