sss

দাওয়াত দিয়ে এনে শিল্পীকে ‘ধর্ষণ’

সাভার সংবাদদাতা : সাভারের আশুলিয়ায় একটি অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিয়ে এনে এক শিল্পীকে ‘ধর্ষণের’ অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ওই নারী আশুলিয়া থানায় মামলা করেছেন। ধর্ষিতার দাবী তিনি বাউলশিল্পী। অনুষ্টানে গান গাইতে দাওয়াত দিয়ে এনে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার আশুলিয়ার আউকপাড়া এলাকায় একটি অনুষ্ঠানে গান গাওয়ার জন্য স্থানীয় কয়েকজন লোক নারায়ণগঞ্জে ওই নারী বাউলশিল্পীকে নিয়ে আসেন। পরে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাঁকে একটি ঘরে আটকে রেখে ধর্ষণ করে। সকালে ওই নারীকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছে।
এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল আওয়াল বলেন, এ ঘটনায় ওই বাউলশিল্পী মামলা করেছেন। অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
এর আগে গেল মে মাসে সাভারে এক স্কুল ছাত্রী ও এক নারী পোশাক শ্রমিক ধর্ষণের শিকার হন।
সাভার পৌর এলাকার রেডিও কলোনি এবং কাতলাপুর মহল্লায় এ দুটি ঘটনা ঘটে।
স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ১১ বছর বয়সী স্কুল ছাত্রী এবং ১৬ বছর বয়সী পোশাক শ্রমিককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়েছিলো।
স্কুল ছাত্রীর বড় বোন তখন জানিয়েছিলেন, রেডিও কলোনি এলাকার একটি স্কুলের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী তার বোনকে বৌদ্ধ নামের তাদের প্রতিবেশী এক যুবক কৌশলে স্থানীয় একটি লেবু ক্ষেতে নিয়ে ধর্ষণ করে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে তার বোনকে উদ্ধার করে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় বলে জানান তিনি।
এছাড়া কাতলাপুর মহল্লায় ১৬ বছর বছর বয়সী ওই গামের্ন্টস কর্মীকে দল বেঁধে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে তার বাবা জানান।
তিনি বলেন, গভীর রাতে তার মেয়েকে কেউ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। ভোর রাতে বাড়ির অদূরে তাকে পাওয়া যায় এবং উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মেয়েটিকে কয়েকজন মিলে ধর্ষণ করেছে বলে তার বাবার ভাষ্য।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পরিবার পরিকল্পনা অফিসার ডা. আমজাদুল হক তখন জানান, মহিলা চিকিৎসক দিয়ে পরীক্ষা করে তার ধর্ষিত হওয়ার আলামত পাওয়া যায়।
এর আগে ঐদিন ভোর ৫টার দিকে কাতলাপুর থেকে আসা এক গামের্ন্টসকর্মী ভর্তি হন। তাকে দলবেঁধে ধর্ষণ করা হয়।
পরে দুজনকেই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দুটি ঘটনাই পুলিশকে অবহিত করা হয়েছিলো।
এর আগে ২০১৫ সালে ঢাকার সাভারের ডগরমোড়া এলাকায় এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া যায়। সে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী ছিল।
এ ঘটনায় শিশুটির বাবা তখন সাভার মডেল থানায় মামলা করেছেন। এরপরই চিকিৎসার জন্য মেয়েটিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
শিশুটির বাবা তখন অভিযোগ করেন, তিনি ডগরমোড়া এলাকার একটি বাড়ি দেখাশোনার কাজ করেন। ওই এলাকারই বখাটে যুবক সাইফুল ইসলাম (১৮) তাঁর মেয়েকে স্কুলে যাওয়া-আসার পথে উত্ত্যক্ত করে আসছিল। যুবকের পরিবারকে বিষয়টি জানানোর পরও তাকে নিবৃত্ত করার কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
মামলার বাদীর ভাষ্যমতে, প্রাইভেট পড়ার জন্য সকালে তাঁর মেয়ে স্কুলে যাচ্ছিল। পথে সাইফুলের সঙ্গে দেখা হলে সে তাঁর মেয়েকে কৌশলে তাদের বাড়িতে নিয়ে যায় ও ধর্ষণ করে। ঘটনার সময় ওই বাড়িতে কেউ ছিল না।
সে সময় কয়েকজন প্রতিবেশীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঘটনার পর এলাকার মাতব্বরেরা সাইফুলের সঙ্গে মেয়েটিকে বিয়ে দিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি। তখন সাইফুলের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে থানায় মামলা করেন শিশুটির বাবা।