IMG_20170805_180927_182

চলো চলি কৃষিস্বাস্থ্যের পথে

বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : এখন চলছে মাইক্রো ফার্মিং এর সময়। জানিনা, এই ‘মাইক্রো ফার্মিং’ শব্দটা ব্যবহার করা যুক্তিযুক্ত হলো কিনা। বলছি এই কারণে যে- আজ ছাদ বাগান নিয়ে আমাদের উৎসাহ বাড়ছে, চৌবাচ্চায় বাণিজ্যিকভাবে মাছচাষ হচ্ছে, মাটি ছাড়াই সবজি চাষের একোয়াফনিক্স পদ্ধতির সফল গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে। এসব পদ্ধতি নিঃসন্দেহে বিষমুক্ত চাষাবাদের সূচনা করবে, খাদ্য নিরাপত্তা তথা নিরাপদ খাদ্যের নিশ্চয়তা দিবে বলে আমার বিশ্বাস।

আমার বিশ্বাস, একসময় হয়তো জমি বা মাটি -এর কোনটিই চাষাবাদের জন্য বড় অন্তরায় হবে না- অন্তরায় হবে আলো। আমরা তখন হয়তো আপওয়ার্ড এগ্রিকালচারের দিকে ঝুঁকবো। সেটা আবার কেমন? সেটা হলো শুধু লম্বা একটা খুঁটি আর তাতে ঝুলবে গাছের বীজ কিংবা চারা। ব্যাস, হয়ে গেল তৃণ-লতা-গুল্ম। আকাশের বৃষ্টি, শূণ্যের আলো, বাতাস। তারপর বিজ্ঞানের কল্যাণে একদিন উঠে গেল খুঁটি, স্যাটেলাইট মোশনে (Satellite motion) সবজি বাগান হয়তো আকাশেই ঘুরতে থাকবে। আপনার পাসওয়ার্ড দেওয়া বাগান তখন বিশ্বায়নে ভূমিকা রাখবে। আফ্রিকার হাভাতে মানুষদের খাদ্য সাহায্য দেবার ইচ্ছে হলেই, আপনি আপনার পাসওয়ার্ড খুলে দিতে পারবেন। হ্যাঁ, হয়তো বা অতি আধুনিক কৃষি এমনই হবে।
কিন্তু এসব নিয়ে আমি মোটেই ভাবছি না। আমি ভাবছি, ঐ ধুলোবালি কাদা মাখানো- সহজ ভাষার চাষিদের কথা। আজ আধুনিক কৃষির নামে যে বালাইনাশকের মহড়া চলছে, যথেচ্ছা অপব্যবহার চলছে তা আমাদের হেলথ, এনভায়রনমেন্ট এবং ইকোসিস্টেমের উপর দারুণ বিরূপ প্রভাব ফেলছে। প্রভাব ফেলছে এ্যাকুট এন্ড ক্রণিক ডিজিজের উপর। কোন কোন জায়গায় নিষিদ্ধ কীটনাশকের ব্যবহার, মজুদ এবং এর ক্ষতিকর প্রভাব এখনো বিদ্যমান। এইতো গেল ২০১২ সাল। দিনাজপুরের লিচুতে নিষিদ্ধ এনডোসালফান প্রয়োগ করায় এবং ঝরে পড়া লিচু খেয়ে ১৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। নিষিদ্ধ ডিডিটি ‘র রেসিডিউয়াল ইফেক্ট এখনো বিদ্যমান। এখানেই শেষ নয়- মাতৃদুগ্ধেও মিলছে বিষাক্ত ডিডিটি।
আমি ভাবছি, মাঠেঘাটে খেটে খাওয়া ঐ সরল মানুষগুলোর কথা- যারা জানেই না কীটনাশক প্রয়োগের সময় কী কী ব্যক্তিগত সুরক্ষা গ্রহণ করতে হয়। অবহেলায়, অসতর্কতায় শারীরিক ও মানসিক ঠিক কী ধরণের সমস্যার সৃষ্টি হয়। যখন মাস্ক ফাউন্ডেশনের শুরুর দিক, তখন মনে হতো নাক দিয়েই বুঝি সব বিষ চাষির দেহে ঢুকে পড়ে। এখন বিভিন্ন রিসার্চ জার্নাল ঘেটে দেখতে পাচ্ছি, চামড়া বা ত্বক দিয়েই চাষির শরীরে শতকরা ৯৩ ভাগ বিষ প্রবেশ করে, যদি কোন প্রকার পিপিই বা পার্সোনাল প্রোটেকটিভ ইকুয়েপমেন্ট ব্যবহার করা না হয়।
আমাদের কীসের অভাব? আমাদের অভাব সচেতনতার। তাই মাস্ক ফাউন্ডেশনের স্লোগান – অ্যাওয়ার্নেস- অ্যাভয়েড্যান্স- একসেপ্টান্স। এখন আপনি চাইলেই আমাদের ওয়েবসাইট www.maskfoundation.com থেকে ঘুরে আসতে পারবেন। আমরা চাই, ন্যাশনাল কারিকুলামে কৃষিস্বাস্থ্য বিষয়টি সিলেবাসভুক্ত হবে, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ‘ডিপার্টমেন্ট অব এগ্রিকালচারাল হেলথ’ খোলা হবে। সমস্ত কৃষিবিদদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় কৃষিস্বাস্থ্যের সমগ্র বিষয়টি প্রতিষ্ঠা পাবে। আপনারা জেনে খুশি হবেন যে, মাস্ক ফাউন্ডেশন অতি শীঘ্রই কৃষিস্বাস্থ্য কেন্দ্র বা এগ্রিকালচারাল হেলথ সেন্টার খুলতে যাচ্ছে- যেখানে চাষিদের স্বাস্থ্যসচেতনতা বিষয়ে কাউন্সেলিং করা হবে; বিনা পয়সায় মিলবে চিকিৎসা।
কৃষিস্বাস্থ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে মাস্ক ফাউন্ডেশন। আমি মনে করি, এগ্রিভিউ টোয়েন্টিফোর ডটকমের মতো অনলাইন এগ্রি পোর্টালগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। সম্পাদক ডাঃ খালিদ হোসাইন এবং প্রকাশক মনজুর কাদের চৌধুরী আপনাদের প্রতি আমার এই প্রত্যাশা যে- আপনাদের নিউজ পোর্টালে ‘কৃষিস্বাস্থ্য’ নামে একটি বিভাগ খুলুন যেখানে কৃষিস্বাস্থ্য বিষয়ে আলোচনা হবে- হ্যাজার্ডাস ওয়ার্কগুলোকে চিহ্নিত করা হবে। বালাইনাশকজনিত স্বাস্থ্যসমস্যা কিংবা চাষি এবং গবাদিপশু ও অতিথি পশুপাখির মৃত্যুর সচিত্র প্রতিবেদন হবে। বালাইনাশকজনিত বায়ুদূষণের ফলে ম্যাক্রো এন্ড মাইক্রো এনভায়রনমেন্ট পলুশন, ট্রান্স বাউন্ডারি ইফেক্ট, ওয়াটার এন্ড সয়েল ইকোসিস্টেমের হ্যাজার্ডাস ইফেক্ট তথা এই বায়ু-পানি-মাটির উপর নির্ভরশীল মানুষের স্বাস্থ্যগত সমস্যার এপিঠ ওপিঠ নিয়ে গবেষণা-লেখালেখি-আন্দোলন সোচ্চার হবে। মানুষ সচেতন হবে। বালাইনাশক কোম্পানিগুলো তখন হয়তো হাত গুটিয়ে বসে থাকতে পারবে না। সিএসআর (কর্পোরেট সোস্যাল রেসপন্সিবিলিটি) হয়তো সিএআর (কর্পোরেট এগ্রিকালচারাল রেসপন্সিবিলিটি) হিসেবে পরিবর্তন হবে। আর এগ্রিভিউ টোয়েন্টিফোর ডটকমে ‘কৃষিস্বাস্থ্য’ বিভাগ খোলার মাধ্যমে আপনাদেরও এগ্রিকালচারাল রেসপন্সিবিলিটি কিছুটা হলেও বাড়বে। বিষমুক্ত থাকবার প্রাণান্ত চেষ্টা সফল হবে, সুরক্ষা হবে। সুরক্ষিত হবে- আমাদের কৃষি, আমাদের কৃষিস্বাস্থ্য।
ঢাকার উত্তরায় অবস্থিত জিপাইরাস রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত এগ্রিভিউ২৪ ডটকম এর ১ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে ”বিশেষ সম্মাননা পুরষ্কার” প্রাপ্ত কৃষিবিদ মো. হামিদুল ইসলাম কর্তৃক প্রদত্ত স্বাগত বক্তব্য থেকে সংগৃহীত।