Tangail-Bhuyapur-flad-(2)-16.07.2017.

টাঙ্গাইলের ছয় উপজেলার বানভাসী মানুষ ত্রাণের অপেক্ষায়

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :

টাঙ্গাইলে যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছে যমুনা পাড়ের মানুষ। এতে টাঙ্গাইল সদর, গোপালপুর, ভূঞাপুর, কালিহাতী, দেলদুয়ার ও নাগরপুর উপজেলার চরাঞ্চল এলাকার কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। সেই সাথে তলিয়ে গেছে ফসলি জমি। গত ২৪ ঘন্টায় ভূঞাপুর উপজেলার অর্জুনা, চুকাইনগর, গোবিন্দাসী, ভালকুটিয়া, কষ্টাপাড়া, ইদুলিয়া বাড়িসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম নতুন করে বন্যা কবলিত হয়েছে। ভূঞাপুর পৌর এলাকার ফকির পাড়া, চর বেতুয়া, চর বামন হাটা, চর কুতুবপুর গ্রামে নতুন করে যমুনার পানি প্রবেশ করেছে। ভূঞাপুর, কালিহাতী ও গোপালপুর উপজেলার ৩০টির বেশি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এসব এলাকার বহু মানুষ ঘরের মালামাল ও গবাদিপশু নিয়ে বাঁধ এবং বাঁধের পূর্ব পাড়ের উঁচু জায়গাগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে।

এদিকে, যমুনা নদীর শাখা পুংলী, এলেংজানী, ঝিনাই, লৌহজং নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো হুমকীর মুখে পড়েছে। বালির বস্তা ও বাঁশ দিয়ে অস্থায়ীভাবে ভাঙন রোধের চেষ্টা করে যাচ্ছে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ।

ভূঞাপুরের গাবসারা ইউনিয়নের জালাল উদ্দিন, তমছের আলী, জাহাঙ্গীর মিয়া, অর্জুনা ইউনিয়নের লেয়াকত আলী, হাসমত ও বিল্লাল জানায়, নৌকা জোগাড় করে ঘরের মালামাল উঁচুস্থানে নিতে সক্ষম হয়েছি। অনেকেই নৌকার অভাবে মালামাল সময় মতো সরাতে না পারায় যমুনার প্রবল ¯্রােতের তোড়ে ঘরের মালামাল, গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি, গাছপালা, ধান-চালসহ অন্যান্য আসবাপত্র ভেসে গেলেও ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা ছাড়া কিছুই করতে পারেননি। এক্ষেত্রে সরকারি বা বেসরকারিভাবে কোনো ত্রাণ সহযোগিতা তারা পাচ্ছে না।

স্থানীয় বানভাসীরা জানায়, কেউ কেউ উঁচু বাঁধে আশ্রয় নিলেও অনেকেই এখনও পানিবন্দি হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন। দুর্গত এলাকায় এখনো পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছেনি। খাবারের পাশাপাশি নিজেদের থাকার জায়গা এবং গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে চরাঞ্চলের মানুষ। আর কিছুটা পানি বাড়লে ওইসব ইউনিয়নে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই অবস্থায় সরকারি ত্রাণের অপেক্ষায় বসে আছে জেলার একাধিক এলাকার দুর্গত মানুষ।

টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহজাহান সিরাজ জানান, উজান থেকে নেমে আসা ঢল এবং কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে যমুনা ও ধলেশ্বরী নদীতে পানি বৃদ্ধি পায়। আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই পানি কমতে শুরু করবে।

টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন জানান, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা হাতে না পাওয়ায় ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে কিছুটা বিলম্বিত হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউএনওদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তালিকা হাতে পেলে খুব দ্রুতই ত্রাণ বিতরণ করা হবে। তবে বেসরকারি পর্যায়ে রাজনৈকিত ব্যক্তিরা ত্রাণ নিয়ে এগিয়ে এসেছেন- এটা আশার কথা।

ছানোয়ার হোসেন এমপি’র নগদ টাকা বিতরণ

টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চরাঞ্চলে বন্যার সাথে যুক্ত হয়েছে তীব্র নদী ভাঙন। প্রতিদিনই নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে গ্রামীণ জনপদের বসতবাড়ি, ফসলী জমি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ স্থাপনা। টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন শনিবার (১৬ জুলাই) দিনব্যাপী চরাঞ্চলের কাকুয়া ইউনিয়নের যমুনা নদীর ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে ভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী গাইড বাঁধ নির্মাণের আশ্বাস দেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে আর্থিক সহায়তা হিসেবে নগদ টাকা বিতরণ করেন। এসময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আওয়ামীলীগ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।