bdr
bdr

জাবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চের মৌন মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ

ইলিয়াস আহমেদ খান, জাবি প্রতিনিধি:

জাহাঙ্গীরনগর বিশ^বিদ্যালয় ( জাবি ) ছাত্রদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চ মৌন মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছে। সকাল এগারোটায় মৌন মিছিলটি সমাজ বিজ্ঞান অনুষদ থেকে শুরু হয়। মৌন মিছিলে প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

মৌন মিছিলটি সমাজবিজ্ঞান অনুষদ থেকে শুরু হয়ে নতুন কলা ভবন, প্রসাশনিক ভবন, পুরাতন কলা ভবন প্রদক্ষিণ করে এসে আবার প্রসাশনিক ভবনের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। মৌন মিছিল শেষে ছাত্র ইউনিয়নের জাবি সংসদের সহ-সভাপতি অলিউর রহমান সানের সঞ্চালণায় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানান।

দর্শন বিভাগের শিক্ষক এ এস এম আনোয়ারুল ভূইয়া বলেন, ‘৫২ জন শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে যে মামলা করা হয়েছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট। বিচারের নামে বিশ^বিদ্যালয় যে তদন্ত কমিটি করেছে সে কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন থেকে যায়, কারণ যারা মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেই সিন্ডিকেট সদস্যরাই আবার তদন্ত কমিটির সদস্য। আমরা চাই দ্রুত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে করা মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হোক।’

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ঐক্যমঞ্চের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. নাসিম আখতার হোসাইন বলেন, ‘ দ্রুত মামলা প্রত্যাহার না করা হলে আজকের এই মৌন মিছিল আগামি দিনে ভয়ঙ্কর রূপ নিতে পারে। আমরা জানি সিন্ডিকেট সিদ্ধান্ত থেকেই মামলা করা হয়েছে আর প্রশাসন চাইলেই মামলা প্রত্যাহার করা সম্ভব।’

মৌন মিছিল ও মানববন্ধনে অধ্যাপক মাফরূহী সাত্তার, অধ্যাপক শামীমা সুলতানা, অধ্যাপক মির্জা তাসলিমা সুলতানা, অধ্যাপক কামরুল আহসান, সহকারী অধ্যাপক আনিছা পারভীন জলীসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং রাজনৈতিক ও সাস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ গত ২৬ মে ভোরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সিঅ্যান্ডবি এলাকায় বাসচাপায় নাজমুল হাসান রানা ও মেহেদী হাসান আরাফাত নামের দুই শিক্ষার্থী নিহত হন। নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ এবং নিরাপদ সড়কসহ সাত দফা দাবিতে পরদিন ২৭ মে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীরা। বিকালে পুলিশ রাবার বুলেট, টিয়ারশেল ছুড়ে শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক থেকে সরিয়ে দেয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা, সাংবাদিকসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন।

পরে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনে গিয়ে ভাঙচুর ও কয়েকজন শিক্ষককে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ উঠে। এ ঘটনায় ওইদিন রাতে উপাচার্যের বাসভবনে অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেট সভা থেকে ৩১ শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখপূর্বক অজ্ঞাতনামাসহ মোট ৫২ জনের বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। মধ্যরাতে উপাচার্যের বাসভবন থেকে ৪২ শিক্ষার্থীকে আটক করে নিয়ে যায় আশুলিয়া থানা পুলিশ। পরে প্রশাসনের মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়। ২৮ মে গ্রেফতারকৃত ৪২ শিক্ষার্থীকে জামিনে মুক্তি লাভ করে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে নিহত দুই শিক্ষার্থীর পরিবারকে আর্থিক অনুদান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি দিয়েছে জাবি প্রশাসন। এ ছাড়াও ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে স্পিডব্রেকার নির্মাণ করা হয়েছে।