73297_dhaka

ঢাকার বাতাসে স্বাভাবিকের চেয়ে তিনগুণ বেশি ধুলা

বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : ঢাকার বাতাসে স্বাভাবিকের চেয়ে তিনগুণ বেশি ধুলা (অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা) থাকার কথা জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন পরিবেশে ও বনমন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। রোববার সংসদের অধিবেশনে আওয়ামী লীগের এমপি এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি ‘নরওয়েজিয়ান ইনস্টিটিউট ফর এয়ার রিসার্চ’ এর গবেষণার বরাত দিয়ে এ তথ্য তুলে ধরেন।  মন্ত্রী বলেন, বাতাসে ভাসমান বস্তুকণার পরিমাপ করা হয় প্রতি ঘনমিটারে মাইক্রোগ্রাম এককে। এসব বস্তুকণাকে ১০ মাইক্রোমিটার ও ২.৫ মাইক্রোমিটার ব্যাস শ্রেণিতে ভাগ করে তার পরিমাণের ভিত্তিতে ঝুঁকি নিরূপণ করেন গবেষকরা। বাংলাদেশের পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা অনুযায়ী বাতাসে প্রতি ঘনমিটারে ১৫০ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত ধুলাকে সহনীয় ধরা হয়। সেখানে শুকনো মৌসুমে ঢাকায় এর মাত্রা থাকে ৪৯৯ মাইক্রোগ্রাম পর্যন্ত। তিনি আরও বলেন, ঢাকা শহরের ধুলি ধূষণের ৫৮ শতাংশের কারণ আশপাশের এলাকার ইটভাটা। আর খোলা অবস্থায় নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালনার কারণে ১৮ শতাংশ ও যানবাহনের কারণে ১০ শতাংশ দূষণ হয়। এছাড়া তিনি জানান, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীকে পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা হিসেবে ঘোষণা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, নদী দূষণ রোধে নৌ পরিবহন মন্ত্রীর নেতৃত্বে বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের সমন্বয়ে একটি ট্রাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্স নিয়মিত সভার মাধ্যমে করণীয় নির্ধারণ এবং তা বাস্তবায়নে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করে থাকে। এছাড়া বর্জ্য নির্গমনকারী সকল কারখানায় বর্জ্য পরিশোধনাগার (ইটিপি) স্থাপন ও পরিবেশগত ছাড়পত্র  গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের সদস্য দিদারুল ইসলামের তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে আনোয়ার হোসেন জানান, জলবায়ূ পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডে সরকারের রাজস্ব বাজেট হতে ২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ট্রাস্ট ফান্ড হতে ৫০১টি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এরমধ্যে ২১৩টি প্রকল্প সফলভাবে সমাপ্ত হয়েছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবেলায় প্রয়োজনীয় অন্যান্য পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সরকার দলীয় সদস্য এম. আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ঢাকা শহরে ধুলি দূষণের পরিমাণ পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৯৭ এর মানমাত্রা অপেক্ষা তিনগুনেরও বেশী। এই বায়ূ দূষণের মাত্রা ও এর উৎস চিহ্নিত করতে সুইডেনের একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় পরিবেশ অধিদপ্তর একটি গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এতে দেখা যায়, শুষ্ক মৌসুমে ঢাকা শহরে ধুলি দূষণের মাত্রা অত্যধিক। যা পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৯৭ এর মানমাত্রা অপেক্ষা অনেক বেশী। গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, ঢাকা শহরের ধুলি দূষণের অন্যতম উৎস হলো ঢাকার পাশ^বর্তী বিদ্যমান ইটভাটা (৫৮ শতাংশ), খোলা অবস্থায় নির্মাণ কার্যক্রম পরিচালনা (১৮ শতাংশ) ও যানবাহনের কারণে দূষিত হয় ১০ শতাংশ।