4

রাশিয়া কানেকশনের তদন্তে এফবিআইয়ের সাবেক প্রধান রবার্ট মুলার

বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়ে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী টিমের রাশিয়ান কানেকশনের তদন্ত করতে এফবিআইয়ের সাবেক প্রধান রবার্ট মুলারের নাম ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আইন মন্ত্রণালয়। বুধবার তাকে ওই তদন্তের স্পেশাল কাউন্সেল হিসেবে নিয়োগ দেয়ার কথা বলা হয়। রাশিয়া কানেকশনকে কেন্দ্র করে এফবিআইয়ের পরিচালক পদ থেকে গত সপ্তাহে জেমস কমি’কে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। এতে সমালোচনা ছড়িয়ে পড়ে যে, নিজেকে ওই রাশিয়া কানেকশন থেকে রক্ষা করতে ট্রাম্প এমন কাজ করেছেন। কারণ, রাশিয়া কানেকশন নিয়ে এফবিআই যে তদন্ত করছে তার নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন জেমস কমি। রাশিয়া কানেকশনকে কেন্দ্র করে প্রথম পদ হারান জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইকেল ফ্লিন। তাকে ১৪ই ফেব্রুয়ারি বরখাস্ত করার একদিন পরেই ট্রাম্পের সঙ্গে জেমস কমি’র বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন মাইকেল ফ্লিনের বিরুদ্ধে তদন্ত বন্ধ করতে। এ নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। অনেকে বলছেন, এর ফলে সাবেক প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের পথে হাঁটা শুরু করেছেন ট্রাম্প। রিচার্ড নিক্সনকে ওয়াটারগেট কেলেঙ্কারিতে পদ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছিল। সে যা-ই হোক এবার সেই রাশিয়া কানেকশন তদন্তে আসছেন রবার্ট মুলার। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। এতে বলা হয়, এফবিআই পরিচালক জেমস কমি’কে বরখাস্ত করার পর হোয়াইট হাউজ প্রচন্ড রাজনৈতিক উত্তাপের মুখে পড়ে। বিরোধী দল ডেমোক্রেট ও ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের অনেকে রাশিয়া কানেকশন নিয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান। আবার কেউ কেউ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাব আনার আহ্বান জানান। এরই প্রেক্ষিতে আইন মন্ত্রণালয় রবার্ট মুলারকে বেছে নিতে বাধ্য হয়। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাশিয়া হস্তক্ষেপ করেছিল বা করার চেষ্টা করেছিল বলে জোর অভিযোগ আছে। বলা হয়, ডেমোক্রেট প্রার্থী হিলারি ক্লিনটনকে পরাজিত করতে ট্রাম্পের পক্ষ নিয়েছিল রাশিয়া। রাশিয়া এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এফবিআই প্রধান জেমস কমিকে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বরখাস্ত করার পর নানা অভিযোগে জর্জরিত ট্রাম্প প্রশাসন। সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বিভিন্ন মহলে। হোয়াইট হাউজের এক সিনিয়র কর্মকর্তা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট এখন এসব খবরকে ঠান্ডা মাথায় নিচ্ছেন। নিজের টিমকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করছে। ওদিকে অভিযোগ আছে গত সপ্তাহে রাশিয়ার কাছে তিনি আইএস বিষয়ে অত্যন্ত স্পর্শকাতর তথ্য বিনিময় করেছেন। এ অভিযোগ ট্রাম্প টিম বা ট্রাম্প অস্বীকার করলেও মিডিয়া কিন্তু চুপ করে নেই। একের পর এক ডকুমেন্ট তুলে ধরছে। শেষ পর্যন্ত এ নিয়ে মুখ খুলেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র কোন গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করে নি রাশিয়ার সঙ্গে। তার এ বক্তব্য নিয়েও সমালোচনা আছে। সমালোচকরা বলছেন, ট্রাম্পকে নির্দোষ প্রমাণ করতে এখন সার্টিফিকেট দিচ্ছেন পুতিন। এর মধ্যেও এক রকম রহস্যের গন্ধ আছে।