IMG_20170331_111828

চাষিকে স্বাস্থ্য সচেতন করছে মাস্ক সেফটি ফার্স্ট ক্লাব

IMG_20170331_102733  খন্দকার মিজানুর রহমান টিপু  :

ব্যক্তিগত সুরক্ষা সুনিশ্চিত করতে চাষী পর্যায়ে কীটনাশক প্রয়োগের মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজে সুরক্ষার কৌশল সম্পর্কে সচেতন করতে এগিয়ে চলছে মাস্ক সেফটি ফার্স্ট ক্লাব (এমএসএফসি) নামের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। গত শুক্রবার দিনব্যাপী মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নালড়া গ্রামে অবস্থিত এমএসএফসির কার্যালয় হতে নালড়া বাজার পর্যন্ত স্বাস্থ্য সুরক্ষায় মাস্কের গুরুত্ব এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষার অন্যান্য উপাদান নিয়ে ব্যাপক চাষি সচেতনতা সৃষ্টি করে এমএসএফসি। মাস্ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ মো. হামিদুল ইসলাম, এমএসএফসির সাধারণ সম্পাদক মো. রনি আহমেদ, সহকারী সম্পাদক মো. রাকিবুল ইসলাম সজল, প্রচার সম্পাদক কাজী সোলায়মান এবং মাস্ক সেফটি ফার্স্ট ক্লাবের সদস্য আবু বক্কর, গাজী তানভীর আহমেদ, মতিউর, রাশেদ আহমেদ, রবিউল হাসান, রবিন, তন্ময়, আসিফ আহমেদ ও গাজী কালাম এই স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক কর্মসূচীতে অংশ নেন। প্রত্যেক চাষীর মাঝে বিতরণ করা হয় মাস্ক। পরে পুরো বাজার প্রদক্ষিণ করে এমএসএফসি’র র‍্যালী।

কৃষিবিদ মো. হামিদুল ইসলাম বলেন, কৃষিতে কোন কোন ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ঠিক কী কী ধরনের ব্যক্তিগত সুরক্ষাকারী উপাদান বা পোশাক-পরিচ্ছদ (পিপিই) পরতে হয় তা চাষীদের নিকট আজও অজানা বা একপ্রকার অবহেলিতই রয়ে গেছে। আমাদের দেশে চাষীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ আজ পর্যন্ত কোন সংস্থা গ্রহণ করেনি। সেখানে মাস্ক ফাউন্ডেশন পরিচালিত এমএসএফসির মাধ্যমে একটি এক্সপেরিয়েন্সড মাস্ক ভলান্টিয়ার টিম তৈরীতে সহায়ক হবে এবং চাষী পর্যায়ে স্বাস্থ্য সচেতনতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কৃষিবিদ ইসলাম আরো জানান, আমরা শীঘ্রই এমএসএফসির এরকম ইউনিট আরো বাড়াবো। সুরক্ষা সেবা পৌঁছাবো চাষীর খামার পর্যন্ত।

এমএসএফসির সাধারণ সম্পাদক মো. রনি আহমেদ বলেন, মাস্ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান কৃষিবিদ মো. হামিদুল ইসলাম স্যারের সুচারু দিক নির্দেশনা এবং সার্বিক সহযোগীতায় এমএসএফসির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আমাদের উইকলী অ্যাওয়ার্নেস প্রোগ্রাম একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। আজকের এই অ্যাওয়ার্নেস প্রোগ্রামের মাধ্যমে নালড়া গ্রামের প্রায় শতাধিক চাষীকে নিরাপদ উপায়ে কীটনাশক প্রয়োগের কৌশল সম্পর্কে সচেতন করছি। মাস্ক ব্যবহারের জন্য উৎসাহিত করছি। জনাব রনি আহমেদ আরো জানান, চাষীকে ব্যক্তিগত সুরক্ষার অন্যান্য উপাদান যেমন- হাতে গ্লাভস, চোখে গগলস, ফেসশিল্ড, ঢিলেঢালা শার্ট-প্যান্ট বা অ্যাপ্রোন, পায়ে গামবুট ইত্যাদি সম্পর্কে সচেতন করছি। আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

চাষি প্রতিনিধি শঙ্কু মিয়া ও ছানোয়ার হোসেনের কথা আবার অন্যরকম। তারা বলেন, আমরা এমএসএফসি’র প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। ২০১৬ সালে শুরু হওয়া এই ক্লাব আমাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার কথা বলে, বিষ প্রয়োগে সময় আমাদের নিরাপত্তা গ্রহণের কথা বলে। এতে আমরা আগের চেয়ে এখন স্বাস্থ্যের প্রতি আরো বেশি যত্নশীল হচ্ছি।

এমএসএফসির চাষীপর্যায়ে গ্রুপভিত্তিক ব্যক্তিগত সুরক্ষার এই সচেতনতামূলক কার্যক্রম ছড়িয়ে পড়ুক সবার মাঝে, সবখানে-  এমনটিই প্রত্যাশা করেন নালড়া গ্রামের চাষীরা।